প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৩৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর ওয়াশিংটনে একটি ঐতিহাসিক কাঠামোগত চুক্তিতে সই করেছে ইসরাইল ও লেবানন। গত শুক্রবার দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল লক্ষ্য দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে এই সমঝোতায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ অংশ না নেওয়ায় দক্ষিণ লেবাননে সীমিত আকারে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা এখনো বজায় রয়েছে। চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, "এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করবে।"
চুক্তি অনুযায়ী, দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র একে অপরের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সার্বভৌমত্বের অধিকার স্বীকার করেছে। মোট ১৪ দফার এই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধের অঙ্গীকার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্দি মুক্তি ও নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চুক্তির একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী পুরো দেশের ওপর তাদের কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং তার আগে সমস্ত অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং চুক্তিটি তদারকি করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি সামরিক সমন্বয়কারী দল গঠন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে নানা সংশয় রয়েছে। চুক্তি সইয়ের পরপরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, "হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না।" বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের প্রায় পাঁচ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তিনি আরও বলেন, "লেবাননের সেনাবাহিনীকে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি এলাকায় দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—একটি লিতানি নদীর দক্ষিণে এবং অন্যটি উত্তরে।" অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, "দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।"
এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে দুই পক্ষেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ১৯২ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে প্রায় ১২ লাখ মানুষকে। বিপরীতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুসারে, এই সময়কালে সীমান্তের উভয় পাশে চলমান সংঘাতের কারণে ৩৬ জন ইসরাইলি সেনা এবং ৪ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। হিজবুল্লাহর লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে যোদ্ধা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত থাকায় ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এই অস্থিরতা ইরানের সঙ্গে হওয়া সামগ্রিক আঞ্চলিক শান্তি সমঝোতাকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
মন্তব্য করুন