স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১২:১৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ভিএআরের নাটকীয়তায় ইরানের স্বপ্নভঙ্গ, নকআউট পর্বে ঐতিহাসিক যাত্রা মিশরের

ইতিহাস গড়ার একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছেও শেষ রক্ষা হলো না ইরানের। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর একটি নাটকীয় ও নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তে শেষ মুহূর্তে স্বপ্ন ভেঙে গেল পার্সিয়ানদের। আর এই শ্বাসরুদ্ধকর ড্রয়ের সুবাদে তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার গৌরব অর্জন করল মিশর।

ম্যাচের শুরুতেই নাটকীয়তার আভাস মেলে, যখন মাত্র পাঁচ মিনিটেই এগিয়ে যায় মিশর। মাঠের ডান প্রান্ত থেকে মোহাম্মদ সালাহ বক্সের ভেতর ঢুকে তার চেনা বাঁ-পায়ের কার্লিং শট নেন। ইরানি গোলরক্ষক সেটি প্রাথমিকভাবে প্রতিহত করলেও রিবাউন্ড বল পেয়ে যান সাবের। তার নেওয়া দুর্বল শটটি ডিফেন্ডারদের অসংখ্য পায়ের ফাঁক গলে এবং গোলরক্ষকের হাত ফসকে গোললাইন পার হয়ে যায়। এটি বিশ্বকাপের মঞ্চে মিশরের ইতিহাসে দ্রুততম গোল। গোল খেয়ে মরিয়া ইরান দ্রুতই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়। বক্সে তারেমি চালাকি করে আবদেলমোনেমের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে মিশরীয় ডিফেন্ডার তাকে ফাউল করে বসেন। রেফারি তাৎক্ষণিক পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তবে তারেমির নেওয়া শটটি বাম দিকে দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে রুখে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক শোবেইর।

পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে ১৫ মিনিটেই সমতায় ফেরে ইরান। এজাতোলাহির জোরালো শট শোবেইর আটকে দিলেও রিবাউন্ড থেকে বল পান রামিন রেজাইয়ান। অত্যন্ত কঠিন এক কোণ থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি। প্রথম ম্যাচের পর এই ম্যাচেও গোল করে ইরানের ত্রাতা হলেন রেজাইয়ান। এটি আবার ইরানের বিশ্বকাপ ইতিহাসেও দ্রুততম গোলের রেকর্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ইতিহাস গড়ার একেবারে কাছাকাছি চলে গিয়েছিল ইরান। একটি ফ্রি কিক থেকে ভেসে আসা বল মিশরীয় রক্ষণভাগ ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে দারুণ দক্ষতায় সেটি জালে জড়ান খালিলজাদে। ইরানি শিবিরে যখন উদযাপনের ধুম, ঠিক তখনই বাধ সাধে ভিএআর। নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, শট নেওয়ার মুহূর্তে খালিলজাদে সামান্য অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয় এবং ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে রূপ নেয়। তিন ম্যাচে তিন ড্র ও তিন পয়েন্ট নিয়ে ইরান এখন নকআউটে যাওয়ার অলৌকিক কোনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, পাঁচ পয়েন্ট নিশ্চিত করে উল্লাসে মেতেছে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পা রাখা মিশর।

মন্তব্য করুন