প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬, ১১:৫৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল তিনটি উইকেট, পাকিস্তানের সামনে ছিল ১২১ রান জয়ের লক্ষ্য। পঞ্চম দিন সকালে পাকিস্তান শুরুটা করেছিল বেশ ভালোভাবে, যা বাংলাদেশ শিবিরে শঙ্কা জাগিয়েছিল। তবে শেষমেশ ১২ বলের খেলায় তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ সিরিজ নিজেদের নামে লিখে নিয়েছে। ৭৮ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ করেছে হোয়াইটওয়াশ এবং গড়েছে নতুন ইতিহাস।
বাংলাদেশ ইতিহাসে এ পর্যন্ত ৮৩টি টেস্ট সিরিজ খেলেছে। তবে একাধিক ম্যাচের সিরিজে কখনোই একই প্রতিপক্ষকে দুবার হোয়াইটওয়াশের স্বাদ নিতে পারেনি। এমনকি তাদের প্রিয় প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও নয়। সেই কীর্তি গড়তে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তানকেই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালের সিরিজেও পাকিস্তানকে করল হোয়াইটওয়াশ।
দিনের শুরুর নয় ওভারে এমন ফলাফল মনে হয়নি। মোহাম্মদ রিজওয়ান উইকেটে রীতিমতো শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শন করছিলেন, সাজিদ খানও তার সঙ্গী ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশের বোলিংও ছিল দুর্বল, সুযোগ তৈরি হচ্ছিল না। সাজিদ খান নাহিদ রানার বাউন্সার পুল করতে গিয়ে বল তুলে আকাশে ছুড়ে দিয়েছিলেন। তবে লিটন দাস আর তাইজুল ইসলামের ফাঁক গলে বলটা গিয়ে পড়ে নো ম্যান্স ল্যান্ডে।
শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছিল, তখনই ত্রাণকর্তা হয়ে এলেন তাইজুল ইসলাম। পুরো সিরিজে বহুবার ব্যাট হাতে এবং বল হাতে দলকে বিপদের মুখ থেকে রক্ষা করেছেন, আজও করলেন। তার বলে ডিফেন্ড করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন সাজিদ। ৫৪ রানের জুটিটা ভাঙার সাথে সাথে বাংলাদেশ অনুভব করল, এই ম্যাচ জেতা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সেই অনুভূতিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে অপেক্ষা করতে হলো মাত্র ১১ বল। মোহাম্মদ রিজওয়ান বিদায় নিলেন শরিফুল ইসলামের বলে। এরপর তাইজুলকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন খুররম শেহজাদ। বাংলাদেশের ম্যাচ জয়, পাকিস্তানের হোয়াইটওয়াশ এবং নতুন ইতিহাস, সবকিছুই গড়া হয়ে যায় একসঙ্গে।
মন্তব্য করুন