প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৫:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৬: প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার (১৫ জুন) কারাফটক থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। এরপর রাজধানীর ওয়ারী থানায় দায়ের করা ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্য আসামির জবানবন্দিতে আফ্রিদির সম্পৃক্ততা
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান তৌহিদ আফ্রিদিকে আদালতে হাজির করে এই গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়:
এই মামলার তদন্তে পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন আসামি নিশাদুজ্জামান নিশাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নিশাদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তিতে এই অনলাইন প্রতার চক্রের সাথে তৌহিদ উদ্দিন আফ্রিদির সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভন এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ: যেভাবে পাতা হয়েছিল অনলাইন প্রতারণার ফাঁদ
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, এটি মূলত একটি সুসংগঠিত অনলাইন চাকরি ও বিনিয়োগ প্রতারণার ঘটনা।
যোগাযোগের মাধ্যম: ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি একটি অনলাইন প্রতারক চক্র চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী বাদীর সাথে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে।
কৌশল: শুরুতে চক্রটি বাদীকে বিভিন্ন ধাপে ছোট অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং বিশ্বাস অর্জনের জন্য অল্প পরিমাণ টাকা মুনাফাসহ ফেরত দেয়।
অর্থ আত্মসাৎ: একবার বিশ্বাস অর্জন করার পর, চক্রটি ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে উচ্চ মুনাফাসহ মূল টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগীর মোট ২ লাখ ৩৫ টাকা আত্মসাৎ করে তারা গা-ঢাকা দেয়।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। তদন্তের ধারাবাহিকতায় এখন তৌহিদ আফ্রিদিকে এই মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
পূর্ববর্তী গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থান
উল্লেখ্য, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে গত বছরের (২০২৫ সালের) ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর থেকে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রিক একাধিক হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। আজ নতুন করে এই প্রতারণা মামলাটিতেও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
মন্তব্য করুন