প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০১:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এ বাহিনীর প্রধান সক্রিয় সদস্যরা হলেন— কনিকাড়া গ্রামের আব্দুল বাতেনের ছেলে আব্দুল্লাহ, আব্দুল আউয়ালের ছেলে রিফাত ও হৃদয়সহ তাদের সহযোগীরা। তারা এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক সেবন ও ব্যবসা এবং নারী অপহরণের মতো নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
গত দুই মাস আগে ময়মনসিংহ জেলার এক পুলিশ সদস্যের মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে আসা হয়। পরে ওই মেয়ের পিতা পুলিশ ও র্যাব বাহিনীর সহায়তায় রিফাতের কবল থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন। যার নথি নবীনগর থানায় সংরক্ষিত আছে। তবে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রিফাতকে কেন গ্রেফতার করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। গ্রামবাসীদের ধারণা, দেবিদ্বারের এএসপি (সার্কেল) শাহিনের সুপারিশেই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
এ ছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে সন্ত্রাসী অপকর্মের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় এক বৃদ্ধাকে হত্যা করে লাশের টুকরো বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সে ঘটনায়ও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারী মাওলানা আনোয়ার হোসাইন আনসারী বলেন, "গত ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা দেখার পর বিজয়ী দল স্পেনের খেলোয়াড় লামিনে ইয়ামালের সেজদাকে অনুসরণ করে মানসিক প্রতিবন্ধী আকবর হোসেন (জানি) সেজদা দেন। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী রিফাত ও আব্দুল্লাহ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কিল-ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে চলে যায়। এ খবর বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।"
তিনি আরও জানান, সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম চৌধুরী জানান, লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। পরে গত ২১ জুলাই ঢাকার অতিথি ভবন যমুনায় রাষ্ট্রীয় একটি সফর শেষে বাড়ি ফিরে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন মাওলানা আনোয়ার। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও ওসি কোনো কার্যকর আইনি সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বরং গ্রামবাসীরা এই সন্ত্রাসী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করলে তা বন্ধের চেষ্টা চালায় পুলিশ। গত ২৫ জুলাই বিকেল ৩টায় কনিকাড়া ফুটবল মাঠে সর্বস্তরের গ্রামবাসীর উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. আর. মুজিব, ইউপি সদস্য আহসান হাবীব ও হুমায়ুন কবিরসহ এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিবন্ধী আকবরের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান এবং স্মারকলিপি তৈরির জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।
বর্তমানে প্রতিবাদের পর সন্ত্রাসীরা প্রতিবাদকারীদের নামের তালিকা তৈরি করে মেসেঞ্জারে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন ১৪ হাজার বাসিন্দার এই শান্তিপ্রিয় গ্রামের মানুষ। স্থানীয় সোহেল ও জুয়েল তাদের সার্বিক সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। গ্রামের শান্তি ফিরিয়ে আনতে এই বাহিনী ও তাদের মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য করুন