প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল-এর লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং একটি খাতের ওপর অতিনির্ভরতা কমাতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ একক নির্ভরতা তৈরি করছে। এই নির্ভরতা কমাতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার সেবা, হালকা প্রকৌশল পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক খাতকে সমান নীতিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আংশিক রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও সহজ করেছে। পাশাপাশি জাপানের ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ ধারণার আদলে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার আওতায় দেশের ৬৪ জেলার জন্য ইতোমধ্যে ১৪টি পণ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি প্রভাবিত হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরসিইপি সদস্য দেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের মতো সম্ভাবনাময় বাজারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। টেকসই রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৪-২০২৭ মেয়াদের রপ্তানি নীতিও প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রচলিত বাজারের বাইরে নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য ব্রাজিল, মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিআইএসভুক্ত দেশ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।
রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজনের পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানিতে সহায়তার জন্য এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রি-শিপমেন্ট ঋণ তহবিল গঠন করেছে, যেখানে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা মিলছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করা হয়েছে এবং বাণিজ্য উইংগুলো পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে। পণ্যের বৈচিত্র্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস’কে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা রপ্তানি পণ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা নিয়মিত আয়োজনের পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করেছে, যা রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। একই সময়ে ৪৬টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
শেষে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এলডিসি-উত্তর সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে বিকল্প প্রণোদনা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও সরকার কাজ করছে, যাতে বাংলাদেশ নির্বিঘ্ন ও টেকসইভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে এগিয়ে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন