তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক পাঠদানের সময়সীমা বাড়াতে দেশের প্রধান দুই পাবলিক পরীক্ষা—এসএসসি ও এইচএসসির সময়কাল এবং বিষয়ের সংখ্যা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বিদ্যমান পরীক্ষা পদ্ধতির এই কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা ও ধারণাপত্র চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে।

বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণে ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস বা তার চেয়েও বেশি সময় ব্যয় হয়। এনসিটিবির ধারণাপত্র অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময় দেশের হাজার হাজার স্কুল ও কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন ঘণ্টা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদি এই পরীক্ষার কারণে পরীক্ষার্থীদের ওপর যেমন অসহনীয় মানসিক চাপ তৈরি হয়, তেমনি বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের পাঠদান থেকে বিরত থাকা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল প্রকাশ বিলম্বিত হওয়ায় উচ্চশিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়ায় সেশনজটের ঝুঁকিও বাড়ে।

পরীক্ষা পদ্ধতির এই সংকট কাটাতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি দুই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করতে যাচ্ছে এনসিটিবি। ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে পরীক্ষার বিষয় ও সময় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিষয়ে সেখানে বিশদ আলোচনা হবে।

প্রস্তাবিত এই কর্মশালায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগমসহ দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদরা অংশ নেবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মিলিয়ে প্রায় ৯০ জন অংশীজনের এই দলে ৬টি পৃথক দল কাজ করবে। তারা মূলত সাধারণ শিক্ষাক্রমের সঙ্গে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাক্রমের সমন্বয়, আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক বিষয়ের পুনর্বিন্যাস এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার আধুনিকায়ন নিয়ে একটি চূড়ান্ত সুপারিশমালা প্রণয়ন করবেন।

এই সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি সম্পর্কে এনসিটিবি চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পরবর্তী নির্দেশনার জন্য পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে এ বিষয়ে একটি কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মশালায় দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ডাকা হবে। কর্মশালায় এ বিষয়ে উঠে আসা মতামতগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

পরীক্ষা পদ্ধতির এই সংস্কার নিয়ে এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক বলেন, ‘পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা এবং কর্মদিবস কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র দিয়েছি। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। পরীক্ষা সংক্রান্ত মূল বিষয়গুলো আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত হবে।’

তবে এনসিটিবির বর্তমান ব্যস্ততা তুলে ধরে সংস্থাটির প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর জানান, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই পরীক্ষার সময় ও বিষয় কমানোর বিষয়টি কার্যকর হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো অগ্রগতি বা কার্যক্রম নেই। কারণ, আমাদের পুরো টিম এখন আগামী শিক্ষাবর্ষের বইগুলোর জরুরি পরিমার্জন (কারেকশন) এবং সেগুলো বইয়ে ইনসার্ট (অন্তর্ভূক্ত) করার মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে।’

সার্বিক বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানান, সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

 

মন্তব্য করুন