প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর রামপুরায় এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ একই প্রতিষ্ঠানের অপর শিক্ষার্থী মো. শিহাব হোসেনকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে। নিহত শিশুটির শরীরে অস্বাভাবিক যৌনাচারের আলামত দেখতে পাওয়ার পর তার মা শিহাবকে প্রধান অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে পাবনা থেকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ১৯ মে রাতে রামপুরা থানা এলাকার একটি মাদ্রাসার ভেতর থেকে দশ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। সুরতহালের সময় পুলিশ লাশের গোপনাঙ্গে এমন কিছু লক্ষণ দেখতে পায়, যা থেকে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে যে শিশুটি অস্বাভাবিক যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে আরও জানান, লাশ উদ্ধারের আগেই অভিযুক্ত শিহাব মাদ্রাসা ছেড়ে পাবনার গ্রামের বাড়িতে পালিয়ে যায়। পরে রামপুরা থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, শিহাবের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ভেতরেই অস্বাভাবিক যৌনাচারের অভিযোগ ছিল।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে রামপুরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় শিহাবের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও আনা হয়েছে।
রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুটির মা সন্দেহ করছেন, তাঁর ছেলে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সম্পূর্ণ ঘটনার চিত্র পরিষ্কার হবে।
মন্তব্য করুন