ছবি: সংগৃহীত

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সেনা কর্মকর্তা হত্যায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড, নয় জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. তানজিম ছারোয়ারের নির্জন হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে নয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় দেন।

একই ঘটনায় দায়ের করা পৃথক অস্ত্র মামলায় ১৩ জনকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উভয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার রায় ঘোষণার সময় ১২ জন অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একজন আসামি পলাতক রয়েছে। মঙ্গলবার মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে ১২ আসামিকে আদালতে আনা হয়। পরে বেলা সোয়া ১২টার দিকে শুনানি শেষে বিচারক ডাকাতি ও হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড, নয় জনকে যাবজ্জীবন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ জনকে খালাস দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন হলেন মো. হেলাল উদ্দিন, নুরুল আমিন, মো. নাছির উদ্দিন এবং মোর্শেদ আলম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জামাল উদ্দিন বাবুল, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, মোহাম্মদ আনোয়ার হাকিম, জিয়াবুল করিম, মো. ইমাঈল হোসেন, এনামুল হক প্রকাশ তোতা এনাম, মোহাম্মদ এনাম, মো. কামাল এবং আবদুল করিম। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন মো. ছাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, শাহ আলম, আবু হানিফ ও মিনতাজ উদ্দিন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতি প্রতিরোধ ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। ডাকাতদল সদস্যরা পালাতে চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পরদিন মধ্যরাতে সেনা বাহিনীর ফাঁসিয়াখালী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ডাকাতি ও হত্যা এবং পুলিশের উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

লেফটেন্যান্ট তানজিমের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে আর্মি সার্ভিস কোরে কমিশন লাভ করেন।

মন্তব্য করুন