প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৫০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অসাধারণ দক্ষতা ও সুশৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সৌদির হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহ। গত বুধবার রিয়াদের ‘দ্য পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টারে’ বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এই সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আগামী দিনে বৈশ্বিক হজ ব্যবস্থাপনার সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বাংলাদেশের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে সৌদি আরব।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সৌদির হজ ও ওমরাহমন্ত্রী এ বছরের হজের সার্বিক সাফল্যে বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সময়োপযোগী কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহ এই সফলতার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের সক্ষমতার মূল্যায়ন করতে গিয়ে সৌদির হজ মন্ত্রী বলেন, "এ বছর বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও কার্যকর। হজযাত্রীদের সেবায় বাংলাদেশ যে দক্ষতা ও সমন্বয়ের পরিচয় দিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।"
সৌদি মন্ত্রী আগামী ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সে দেশের সরকারের গৃহীত বিভিন্ন আধুনিক পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের কথা বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রীকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে হজের সেবার মান বিশ্বমানে উন্নীত করতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
সৌদি সরকারের এই আন্তরিকতার জবাবে সামগ্রিক হজ ব্যবস্থাপনার অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক উন্নয়নের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং হজ মন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভিড় ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, মাশায়ের অঞ্চলে উন্নত সেবাদানের মাধ্যমে সৌদি সরকার এ বছর হজ পালনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।"
হজযাত্রীদের তথা আল্লাহর মেহমানদের সর্বোত্তম সেবা প্রদানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, "আল্লাহর মেহমানদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের নেওয়া উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব সময় সৌদি আরবের পাশে থাকবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনা এবং ধর্মীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও সুদৃঢ় ও প্রসারিত করবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলামসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কারিগরি দিক, ভবিষ্যৎ যৌথ কর্মপরিকল্পনা এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির নানা বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
মন্তব্য করুন