আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১২:৪৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আসন্ন জাতীয় বাজেট: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের তাগিদ

বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে আসন্ন জাতীয় আয়-ব্যয়ক বা বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং শিক্ষা উপকরণের চড়া মূল্যের কারণে বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা জীবন চরম সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবারের বাজেটে সবার আগে গুরুত্ব পাওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য বর্তমানে সাধারণ মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে রাজধানীতে আসা শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিগত কয়েক বছরে নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাসাভাড়া, খাবার, দৈনন্দিন যাতায়াত এবং শিক্ষাসামগ্রীসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সন্তানের উচ্চশিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা ক্রমেই অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

শিক্ষা খাতে কেবল প্রথাগত বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং সেই অর্থ কীভাবে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে, তা গভীরভাবে তদারকি করা প্রয়োজন। বর্তমান বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপাত্ত বিশ্লেষণ (ডেটা অ্যানালিটিকস), প্রোগ্রামিং এবং উন্নত তথ্যপ্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করা তরুণদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু দেশের একটি বড় অংশের শিক্ষার্থী এখনো এসব আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই আসন্ন বাজেটে প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা, আধুনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং উন্নত বিদেশি ভাষা শিক্ষার জন্য বিশেষ প্রকল্প ও কর্মসূচি ঘোষণা করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণা খাতের দুরবস্থা কাটানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনেক শিক্ষার্থী গবেষণার প্রতি গভীর আগ্রহ দেখালেও প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য, তথ্যভাণ্ডার (ডেটাবেস) এবং আধুনিক গবেষণাগারের অভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পিছিয়ে পড়ছেন। এই সংকট কাটাতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাজেটে বিশেষ স্বাস্থ্য সুবিধা, স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র বা সরকারি হাসপাতালগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা সেবা প্রদানের মতো কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের এই তরুণ প্রজন্মকে যদি এখনই দক্ষ ও সুস্থ মানবসম্পদে রূপান্তর করা না যায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

মন্তব্য করুন