প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬, ১১:২১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে মঙ্গলবার (৯ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে।
বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৩২ দশমিক ৫০ ডলারে অপরিবর্তিত ছিল। এর আগের লেনদেনে স্বর্ণের দাম দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। একই দিনে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫৭ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেড-এর প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে না। কারণ, বিনিয়োগকারীরা ইরান-ইসরাইল যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দিহান। পাশাপাশি এই সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্যের প্রতিও তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন, যা ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরান ও ইসরাইল সাময়িকভাবে হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে তেহরান সতর্ক করে জানায়, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আবার সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
এদিকে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস ধারণা দিয়েছে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে ফেডারেল রিজার্ভ ২০২৬ সালজুড়ে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে এবং সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
বাজারভিত্তিক পূর্বাভাস সূচক সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭০ শতাংশের বেশি হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনের অপেক্ষায়, যা ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
টিম ওয়াটারার বলেন, ‘বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম আবার প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছানো সম্ভব। তবে এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদার পাশাপাশি তেলের দাম, বন্ডের মুনাফা এবং মার্কিন ডলারের মূল্যও নিম্নমুখী হতে হবে।’
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭ দশমিক ৭১ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৫১ দশমিক ৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২১৩ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে।
মন্তব্য করুন