তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০২:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ফেডের সুদহার কমার আভাসে চাঙা স্বর্ণের বাজার

আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ফের চাঙা হয়েছে স্বর্ণের দাম।

বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ট্রয় আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৬.৫৫ ডলারে। এর আগের দিন, মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকা ধরে হিসাব করলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি গ্রাম প্রায় ১৭ হাজার ১০০ টাকা। এই হিসাবে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের হিসাবে বর্তমানে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ২ লাখ টাকার কাছাকাছি।

তবে এই হিসাব শুধু আন্তর্জাতিক স্পট মূল্যের ভিত্তিতে করা। বাংলাদেশের দোকানে সোনা কিনতে গেলে ডলারের বিনিময় হার, ভ্যাট, মজুরি বা মেকিং চার্জসহ আরও নানা খরচ যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত বিক্রয়মূল্য এর চেয়ে বেশি হতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মূল্যায়নে, ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ক্রমশ কমে আসাটাই স্বর্ণের দামের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে। বুধবার প্রকাশ হতে যাচ্ছে ফেডের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির জুলাই বৈঠকের কার্যবিবরণী, যা থেকে সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের আলোচনার একটি ধারণা মিলবে।

সাধারণত সুদের হার কমলে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ-খরচ কমে যায়, ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে এর আকর্ষণ বেড়ে দামও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফএক্সটিএমের গবেষণা বিভাগের প্রধান লুকমান ওতুনুগা মনে করেন, স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৯০ ডলারের ওপরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে পারলে তা ৪ হাজার ৫০৫ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। বিপরীতে দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলারের নিচে নামলে তা ৪ হাজার ২০০ এবং পরবর্তীতে ৪ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। তবে ইরানের বক্তব্য এর সম্পূর্ণ বিপরীত। দেশটির দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনো জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার জেরে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে তেলের দামও, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে স্বর্ণ ও তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

মন্তব্য করুন