প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘নীতি সংস্কার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধান ছয় মাসে সম্ভব নয়, এমনকি এক বছরেও নয়। এটি কাটিয়ে উঠতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে।” তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া।
তবে এই সংকট দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং স্থলভাগে গ্যাস সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যথেষ্ট থাকলেও সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা আসছে না।
তিনি জানান, সরকার একটি সমন্বিত জ্বালানি মিশ্রণ (এনার্জি মিক্স) নীতি প্রণয়নের কাজ করছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক উৎপাদনকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যথাসময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলে সরকার আশাবাদী।
সেমিনারে রাজস্ব খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, কর নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব আমলাদের পরিবর্তে একটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপের হাতে দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কর রিটার্ন দাখিল, রিফান্ড ও অন্যান্য সেবা ধাপে ধাপে অনলাইনে রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে দেওয়া যায়।
এছাড়া সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ (ডি-রেগুলেশন) কার্যক্রম তদারক করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এই টাস্কফোর্স সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘোষিত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।
মন্তব্য করুন