আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:৩৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আদালতের সিদ্ধান্তেই হবে: ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে ফেরত চেয়ে ঢাকার ধারাবাহিক দাবির প্রেক্ষাপটে ভারত জানিয়েছে, এ ধরনের প্রত্যর্পণ ইস্যু চূড়ান্তভাবে আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে। রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে দেশটি।

ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে The Indian Express জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়টি পুরোপুরি বিচার বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত। কোনো ব্যক্তিকে হস্তান্তরের আগে আদালতে প্রমাণ করতে হবে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভারতীয় আইন অনুযায়ীও অপরাধ কি না।

ভারতের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক নয়; এটি আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গেও জড়িত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে চলমান পরিস্থিতিতে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি নয়াদিল্লির একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন। এ সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ওই রায়ের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ সরকার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ভারতীয় আদালতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে তারা এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করবেন।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, এ ধরনের অনুরোধ পর্যালোচনার পর প্রয়োজনে একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করতে পারেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রাথমিক প্রমাণ না থাকলে আদালত অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগও রাখে।

সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করছে, যদিও বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন