মশিউর রহমান সেলিম, জেলা দক্ষিন প্রতিনিধি, কুমিল্লা

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:১৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লায় কৃষি জমি-জলাশয় ভরাটে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে ড্রেজার

কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের বৃহত্তর লাকসামের লালমাই, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ উপজেলা সহ লাকসাম ও নাঙ্গলকোট পৌরএলাকায় পরিবেশ ও জলাধার আইনের তোয়াক্কা না করে অবাধে ভরাট করা হচ্ছে খাল-বিল, পুকুর-ডোবা, দিঘী-নালা, জলাশয়সহ কৃষি জমি। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের মারাত্মক আশংকা এবং মানুষের বাড়িঘর ভাংছে। এছাড়া এ অপকর্মের ফলে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার একর আবাদী কৃষি জমিসহ এলাকায় ড্রেজিং ও বালু বানিজ্যে পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। উপজেলা গুলোর কৃষি জমি-জলাশয় ভরাটে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে ড্রেজার ও বালু ব্যাবসায়িরা। বিশেষ করে গত ১৫ উপজেলা ও পৌরসভা গুলোর প্রশাসন বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অর্থ দন্ড, ট্রাক্টর জব্দ ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা, এছাড়া অনেক এলাকায় মালামালজব্দ ও নিয়মিত মামলা করলেও তাদের দৌরাত্ব এখনও কমেনি। এ নিয়ে ইউপি সচিব ও ভূমি কর্মকর্তাদের পকেট ভারী হচ্ছে বলে এলাকাবাসির অভিযোগ। 
উপজেলা গুলোর স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এ অঞ্চলের পৌরশহর এলাকা ও উপজেলা গুলোর বিভিন্ন স্থানে ড্রেইজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন ও বালু দিয়ে কৃষি জমি ভরাট করায় কমে যাচ্ছে এলাকার খাল-পুকুর,জলাশয়, দিঘি-নালা ও নিচু জমিসহ আবাদী কৃষি জমি। এছাড়া ৫ই আগষ্টের পর জেলা দক্ষিণাঞ্চলে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনে এবং বালু দিয়ে ভরাট বানিজ্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক পেশি শক্তির অনেকের বিরুদ্ধে নানাহ পকেট বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় এক শ্রেনীর স্বার্থান্বেষী মহলের এহেন অপতৎপরতা প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। লাকসাম-নাঙ্গলকোট পৌরশহরসহ উপজেলা ৪টির বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ ও জলাধার আইন লংঘন করে এক শ্রেণীর দুর্নীতি পরায়ন ব্যাক্তিদের যোগসাজশে যত্রতত্র প্রকাশ্যে চলছে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও বিভিন্ন স্থান থেকে বালু এনে ভেগু-ট্রাক্টরের মাধ্যমে পুকুর-দীঘি-নালা, কৃষি জমি ভরাটের মহোৎসব। আর এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ফলে এলাকার পরিবেশ ক্রমেই বিপন্নের পথে এগুচ্ছে এবং বাড়িঘর ভাংছে মানুষের। 
এ ব্যাপারে জেলার দক্ষিনাঞ্চলের  উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানান, পরিবেশ ও জলাদার আইন লঙ্ঘনকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হচ্ছে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপের কথা শিকার করলেও এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎ¶নিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।  এদিকে জেলা পরিবেশবাদীদের একাধিক সুত্র বলছেন, পুকুর-দীঘি,কৃষি জমি ভরাট বন্ধে স্থানীয় সরকার কাঠামো অত্যান্ত দূর্বল বিধায় এবং সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে ভুমি দস্যুরা উৎসাহিত হচ্ছে। জেলা দক্ষিণাঞ্চলের ৪টি উপজেলার ও ২টি  পৌরশহরের যত্রতত্র পুকুর- দীঘি ও কৃষি জমি ভরাট হতে থাকলে এলাকার পরিবেশ হবে বিপন্ন। এতে বর্ষার সময় অল্প বৃষ্টিতে এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভরাটকৃত পুকুর-দীঘির বিষয়ে একাধিক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে ড্রেইজার, ভেগু-ট্রাক্টর ব্যবসায়ী সেন্ডিকেটের জনৈক সদস্য গণ বলেন, আমরা স্থানীয় প্রশাসনসহ এলাকার বিশেষ বিশেষ ব্যাক্তিদের ম্যানেজ করে এ ব্যবসা চালাচ্ছি। আপনারা সাংবাদিক লেখালেখি করলে আমাদের কিছুই হবে না। 
 

মন্তব্য করুন