তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৪৭ মিনিট আগে, ০৯:৩৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

অর্থবছরের সময় বদলাচ্ছে, ট্রানজিশনাল বছর হবে ২০২৭-২৮

দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারা ভেঙে দেশের অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমান ১ জুলাই থেকে ৩০ জুনের পরিবর্তে ভবিষ্যতে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণ করা হবে। এই পরিবর্তনের আগে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তীকালীন বা ট্রানজিশনাল বছর হিসেবে ৯ মাসে শেষ করা হবে।

সোমবার রাতে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানায়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়কে ২০২৭-২৮ অর্থবছর হিসেবে ধরা হবে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এপ্রিল–মার্চ ভিত্তিক অর্থবছর কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান জুলাই–জুন অর্থবছরের কারণে বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, কাজের মানহানি এবং জনদুর্ভোগ বাড়ে। এপ্রিল–মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে নির্ধারণ করলে বর্ষার আগে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।

এ পরিবর্তন বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনে সংশোধনী আনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তিগত কাঠামো হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অর্থবছর রাষ্ট্রের আর্থিক পরিকল্পনার মূল ভিত্তি। এর ওপর নির্ভর করে বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আহরণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ অর্থনীতির সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে জুলাই–জুন চক্রে অভ্যস্ত।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সময়সূচি পরিবর্তনের ফলে কিছু সুবিধা তৈরি হলেও বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বর্ষাকালকে অর্থবছরের মাঝামাঝি নিয়ে আসা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে, তবে শুধু সময় পরিবর্তন করলেই উন্নয়ন ব্যবস্থার মৌলিক সমস্যা দূর হবে না।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, রাজস্ব আদায়, বাজেট ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প পর্যবেক্ষণে কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই পরিবর্তনের পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন হবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং, করব্যবস্থা, কোম্পানির অডিটসহ পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নতুন সময়চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

তাদের মতে, এটি শুধু সময়ের পরিবর্তন নয়; বরং পুরো রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর একটি বড় উদ্যোগ, যার সফল বাস্তবায়নে সমন্বিত প্রস্তুতি অপরিহার্য।

মন্তব্য করুন