কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫৯ মিনিট আগে, ০৮:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কালীগঞ্জে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

 লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের অভিযোগে ইউসুফ আলীকে দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযুক্ত ইউসুফ রংপুর ‘নিউ রূপসী বাংলা’ ক্লিনিকের পরিচালক।

​রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাকিনা কাচারি বাজার মোড়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলার কাকিনা মহিমারঞ্জন স্মৃতি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়।

​মানববন্ধনকালে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হাতে ‘ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘আমার বোন নির্যাতিত কেন, প্রশাসন জবাব দাও’, ‘ধর্ষণমুক্ত সমাজ চাই’ ইত্যাদি শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করে। এসময় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত ইউসুফ আলী (৪৫) তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাঞ্চনশ্বর এলাকার মৃত আছমত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ক্লিনিক পরিচালক হলেও আড়ালে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। গত ২০ আগস্ট ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ইউসুফ বসতঘরে ঢুকে মেয়েটিকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ করেন। পরে মেয়েটির তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

​বক্তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পরদিন ২১ আগস্ট ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হলেও তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। প্রভাবশালী ও অর্থবিত্তের মালিক হওয়ায় আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে।

অবিলম্বে ধর্ষক ইউসুফ আলীকে গ্রেফতার করে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে লালমনিরহাট জেলাজুড়ে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

​পরে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন।

এসময় তিনি আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন।

 

মন্তব্য করুন