প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। ফলে মামলাটি এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে এবং যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডনের মাধ্যমে শুনানি শেষ হয়।
শুনানিতে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়। মামলায় দাখিল করা অডিও-ভিডিও প্রমাণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের, যার ফলে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এম হাসান ইমাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার মক্কেলরা কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না এবং তারা কাউকে হত্যা বা হত্যার নির্দেশ দেননি।
ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে আইনজীবী ইশরাত জাহান দাবি করেন, জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাগুলোতে তার মক্কেলদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা থাকতে পারে, তবে তা অপরাধ প্রমাণ করে না। তিনি তার চার মক্কেলের খালাস প্রার্থনা করেন।
এর জবাবে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ তত্ত্বের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত অপরাধে একজন মানুষ নিহত হলেও সংশ্লিষ্ট সবাই দায়ী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
এর আগে ১২ আগস্ট প্রসিকিউশন সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে যুক্তিতর্ক শেষ করে। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলার চারটি অভিযোগই প্রমাণ করতে পেরেছে রাষ্ট্রপক্ষ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
গত ২ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
সব পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় এখন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
মন্তব্য করুন