প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১২:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মাসব্যাপী যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘শান্তিচুক্তি’ স্বাক্ষরের আগমুহূর্তে লস অ্যাঞ্জেলসে পৌঁছেছে ইরানের ফুটবল দল। বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে শহরে পৌঁছালেও রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়া পুরোপুরি এড়ানো যায়নি।
ইরানের কোচ আমির গালেনোই লস অ্যাঞ্জেলসে পৌঁছে স্পষ্টভাবে জানান, তিনি রাজনীতি নয়, ফুটবল নিয়েই কথা বলতে চান। সংবাদ সম্মেলনের আগে ফিফা কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের কেবল খেলা নিয়ে প্রশ্ন করার নির্দেশ দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি তাতে থেমে থাকেনি।
ভিসা নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে স্বাগতিক দেশে নানা জটিলতা—সব মিলিয়ে ইরানের প্রস্তুতি জটিল হয়ে ওঠে। ফলে দলটি যুক্তরাষ্ট্রে খেলার ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মেক্সিকোতে অবস্থান করে।
কোচ গালেনোই জানান, এই ধরনের পরিস্থিতি ফুটবলের স্বাভাবিক আবেগ ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তার ভাষায়, ‘এই ধরনের আচরণ ফুটবলের মানসিকতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।’
দলের তারকা স্ট্রাইকার মেহদি তারেমিও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন।
তারেমি বলেন, সাধারণত বিশ্বকাপ মানেই শান্তি, আনন্দ ও উৎসবের অনুভূতি। কিন্তু এবার সেই অনুভূতি অনেকটাই কমে গেছে। তার মতে, এই ধরনের উত্তেজনা ফুটবলের মূল বার্তাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ইরান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেয়। ১০ ম্যাচে মাত্র এক হার ও দুই ড্র ছিল তাদের রেকর্ড।
তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘর্ষের কারণে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, দলটি মেক্সিকোতে ক্যাম্প করবে এবং শুধুমাত্র ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবে।
কোচ গালেনোই নিশ্চিত করেছেন, সোমবারের ম্যাচ শেষে দলটি আবারও মেক্সিকোতে ফিরে যাবে।
ইরান দলের সামনে আরও একটি জটিলতা হলো লস অ্যাঞ্জেলসে পরিকল্পিত কিছু রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি।
তবুও কোচ ও অধিনায়ক উভয়েই জোর দিয়ে বলেছেন, তারা এখানে এসেছেন সব ইরানিকে প্রতিনিধিত্ব করতে এবং ফুটবলকে ঐক্যের মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরতে।
গালেনোই বলেন, তিনি গর্বিত তার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে এবং আশা করেন ফুটবল বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জাতিকে কাছাকাছি আনবে।
মন্তব্য করুন