অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৯:৪১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আন্দামান সাগরে নৌকাডুবি, নারী ও শিশুসহ ২৫০ জন নিখোঁজ

আন্দামান সাগরে এক ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থা দুটির মতে, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, প্রচণ্ড বাতাস এবং উত্তাল সমুদ্রের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়াগামী একটি জাহাজ সাগরে ভাসমান অবস্থায় কয়েকজনকে দেখতে পায়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ মোট নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের বর্ণনায় উঠে এসেছে এক বীভৎস চিত্র। একজন বেঁচে ফেরা ব্যক্তি জানান, দালালরা মালয়েশিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের নৌকায় তুলেছিল। চার দিন সাগরে চলার পর নৌকাটি ডুবে যায় এবং তাঁরা প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ড্রাম ও কাঠের সাহায্যে পানিতে ভেসে ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নয়জনের মধ্যে ছয়জনই মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তাঁদের আটক করেছে। প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী দাবি করেছেন যে, নৌকাডুবির আগেই ভিড় এবং শ্বাসরোধ হয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন মারা গিয়েছিলেন। এছাড়া নৌকায় ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত তেলের কারণে অনেকে দগ্ধ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

মিয়ানমারে নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা প্রতিবছরই এভাবে অনিরাপদ নৌযানে করে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না থাকার এক ভয়াবহ পরিণতি হিসেবে অভিহিত করেছে। এই মানবিক বিপর্যয় রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন