প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ছয়টি বিষয়ে অনার্স কোর্স বাতিলের প্রস্তাব উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী এসব বিষয় পৃথকভাবে না রেখে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার পরিসর বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, আউটসোর্সিংসহ প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক বিষয়। কলেজ পর্যায়েই চালু করা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠা করা হবে ক্যারিয়ার সেন্টার এবং শেখানো হবে সাতটি বিদেশি ভাষা।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি এখনো আলোচনাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকার সনদনির্ভর শিক্ষা থেকে সরে এসে দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরি হবে।’
শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কর্মসংস্থানের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে পারছে না। ফলে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়ছে। গত ১৩ বছরে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং মোট কর্মসংস্থানের বড় অংশ এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে সীমাবদ্ধ।
এদিকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড নতুন শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা এবং পরীক্ষা গ্রহণের সময় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘ পরীক্ষার কারণে পাঠদান ব্যাহত না হয় এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমে।
বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করতে ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসিতে ৩০ থেকে ৩৫ দিন সময় লাগে, যার ফলে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকে। নতুন পরিকল্পনায় এই সময়সীমা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকার ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এতে ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’সহ নতুন বিষয় যুক্ত করার কথা জানানো হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রথমত বিদ্যমান শিক্ষাক্রমকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে, বাস্তব সম্মতভাবে এটাকে আমরা রিভাইজ করে এই ২০২৭ সালে দিচ্ছি। আর টোটাল চেইঞ্জ যেটা আশা করছেন, সেটা আমরা কাজ শুরু করেছি। ২০২৮ সালে গিয়ে আপনারা সেটা দেখতে পারবেন, এখন নয়। কারিকুলাম খুব সুন্দর হচ্ছে এবং চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘১৬ বছরের সব সমস্যা হয়তো এক দিনে এক বছরে সমাধান করা যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। যতটা দ্রুত সম্ভব আমরা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনব। এখানে কারিকুলামের ভেতরে একটি অংশ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন করতে হবে। পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয় আমরা যুক্ত করছি।’
মন্তব্য করুন