প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ১০:৪৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আড়াইশোর বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর ইরান পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়া অযৌক্তিক হয়ে পড়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননে অব্যাহত হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অবস্থান জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েল হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতির একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক অধিকার অস্বীকার করে চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
কালিবাফের বিবৃতিতে বলা হয়, “এই পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা অযৌক্তিক।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, ইরানের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই স্পষ্ট করেছে যে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানান, ইরানিরা ভুল করে ভেবেছিল লেবানন যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে।
লেবাননের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে বৈরুতে প্রাণ গেছে ৯১ জনের। হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যুতেও দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে রাজি হয়েছে এবং মজুদ ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দেবে। অন্যদিকে কালিবাফ বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুসারে ইরান সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখতে পারবে।
শান্তি আলোচনা শনিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এই ঘটনায় তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁসহ ১৩টি ইউরোপীয় দেশ, জাপান ও কানাডা যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার তাগাদা দিয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং ইরান বিকল্প রুটের মানচিত্র প্রকাশ করেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রচেষ্টা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
মন্তব্য করুন