প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৬:১৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের নাম তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান। রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন:
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে।
তদন্ত শেষে এর মধ্যে ৪৮১ জনের নাম বাতিলের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে।
এই সুপারিশ গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকা— সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, অনেক ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে কৌশলে ভারতের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত বাতিল হওয়া ৬ হাজার ৪৭৬ জনের একটি বড় অংশই হলো ভারতীয় তালিকার অপব্যবহারকারী।
অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর জামুকার উপকমিটি বিস্তারিত তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে। যদি কোনো ব্যক্তি অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হন, তবে তাঁর সনদসহ সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
রংপুর-৪ আসনসহ দেশের যেকোনো প্রান্তের ক্ষেত্রে একই নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন। তালিকা আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে সরকারের এই কঠোর অবস্থান চলমান থাকবে বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন