প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৭:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কুমিল্লার লাকসামে আয়োজিত বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মঞ্চস্থ নাটক “ডিজিটাল সর্বনাশ” ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সমাজের বিভিন্ন অবক্ষয় ও সমসাময়িক সংকটচিত্র তুলে ধরা এ নাটকটি কয়েক হাজার দর্শক-শ্রোতা উপভোগ করেন।
নাটকটির গল্প ভাবনায় ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা। তার অনুপ্রেরণায় নাট্যকার ও নির্দেশক জি.এম.এস রুবেল নাটকটি রচনা ও মঞ্চায়ন করেন। তিনি জানান, বর্তমান প্রজন্মের মোবাইল গেমে আসক্তি, মাদক, জুয়া, ইভটিজিং এবং পারিবারিক অবক্ষয়ের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে নাটকের কাহিনি নির্মিত হয়েছে।
মাত্র দুই দিনের মহড়ায় নাটকটি মঞ্চে তোলা ছিল দুঃসাহসিক উদ্যোগ। তবে সফল উপস্থাপনার জন্য তিনি লাকসাম নাট্যজংশনের কর্মী, ডাকাতিয়া থিয়েটারের মোহনসহ লাকসাম সাংস্কৃতিক জোটের সংশ্লিষ্টদের কৃতিত্ব দেন।
নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন বাউল চরিত্রে জি.এম.এস রুবেল, পেয়ার ভাই চরিত্রে অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন পেয়ার, বাবা চরিত্রে ডাঃ আব্দুল মতিন। বখাটে লিডার হিসেবে অভিনয় করেন মোহন দেবনাথ (ডাকাতিয়া থিয়েটার)। এছাড়া বখাটে চরিত্রে ছিলেন হৃদয় চন্দ্র দাস, হাবিবুল্লাহ শাহিন ও মোঃ নাজমুল ইসলাম। ছাত্রী চরিত্রে অভিনয় করেন রাজু।
গানের দলে ছিলেন বিভোর সরকার, রাকিবুল ইসলামসহ অন্যান্য শিল্পীরা। মেলার কুশিলব হিসেবে অংশ নেন ফারুক হোসেন রিন্টু, ঋত্বিক মজুমদার, অয়ন সরকার ও মাহফুজুর রহমান।
নাটকটি দেখে সাংবাদিক এমএস দোহা বলেন, এক নাটকের মধ্যেই ইভটিজিং, মাদক, জুয়া, মোবাইল গেম আসক্তি ও মবকালচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বাঙালির ঐতিহ্য, বৈশাখী মেলা এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনের বার্তাও এতে সুনিপুণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে নাটকটি উপভোগ করে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং নাট্যকর্মীদের অভিনন্দন জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, মহড়ার তুলনায় মূল মঞ্চে নাটকটির পরিবেশনা ছিল আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য। ভবিষ্যতে নাটকটির আরও মঞ্চায়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ১ম পর্বে লাকসামের বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা নাচ ও গানে পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। এই পর্বের শেষাংশে নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। এ সময় কয়েক হাজার দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল ছিল মুখর।এসয় কয়েক হাজার দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল ছিল মুখর।
উপস্থিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং পৌর মেয়র আলহাজ মজির আহম্মদ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লাকসাম কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী চেয়ারম্যান, লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম, কৃষি কর্মকর্তা মো. আল আমিন, লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ, বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. নুর উল্লাহ রায়হান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাদল, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম ফারুক, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন মুশু, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম মানু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনির আহমেদ, বিএনপি নেতা মো. আবুল হোসেন মিলন এবং গুম পরিবারের সদস্য রাফসানুল ইসলাম ও শাহরিয়ার কবির রাতুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন