প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১১:২৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রংপুর: রংপুর নগরের একটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে আকস্মিকভাবে ঢলে পড়ে এক প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে নগরের ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক সংলগ্ন মেসার্স সুরমা ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষকের নাম মেহেদী হাসান (৩৩)। তিনি রংপুর সদর উপজেলার বালাচড়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং নগরের নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ার বাসিন্দা। মেহেদী হাসান বেগম রোকেয়া কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ আবদুল মতিনের ছেলে। পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শী: সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গতকাল বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটের দিকে মেহেদী হাসান মোটরসাইকেল নিয়ে ওই ফিলিং স্টেশনে যান। তিনি গ্রাহকদের সারিতে না দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। কথা বলা শেষে কয়েক পা এগোতেই তিনি হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আরাফাত হোসেন জানান, মাস্ক পরিহিত ওই ব্যক্তি কর্মচারীর কাছে তেলের বিষয়ে কোনো তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। কথা বলার মুহূর্তেই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। ওই সময় স্টেশনে দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক সাদ্দাম সরকার জানান, পড়ে যাওয়ার পর তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন, যার ফলে দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
শোকের ছায়া: মেহেদী হাসান রংপুর জিলা স্কুলের ২০১০ ব্যাচ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর সহকর্মী ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা পারভীন জানান, স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। অত্যন্ত নিষ্ঠাবান এই শিক্ষকের অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং বন্ধু মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গতকাল রাতেই তাঁর স্বজনেরা ফিলিং স্টেশন থেকে রেখে যাওয়া মোটরসাইকেলটি সংগ্রহ করেছেন।
মন্তব্য করুন