তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:০৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩০ আসামির কার কী সাজা হলো

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তাঁরা দুজনই গ্রেপ্তার রয়েছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক বিভূতিভূষণ রায়। তাঁরা সবাই পলাতক।

মামলায় মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি পলাতক। সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রেপ্তার রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দুজনই পলাতক। সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছর ও সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাফিউল গ্রেপ্তার ও হাফিজুর পলাতক।

সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি পলাতক। সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়া, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমান ও সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে তিন থেকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই পলাতক।

রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজকে দোষী সাব্যস্ত করে হাজতবাসের সময়কে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি পলাতক।

সাবেক উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন ও সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা পলাতক। চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি পলাতক।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি পলাতক। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাদের তিন থেকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই পলাতক।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পুলিশ তাঁর বুকে একের পর এক গুলি করছিল। এ ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে দেয় এবং আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আজকের রায় জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদের বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

মন্তব্য করুন