প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ‘কিছু একটা ঘটতে পারে’। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের সংলাপের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তবে মাঠ পর্যায়ের তথ্য এবং তেহরানের প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরছে।
ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে ইসলামাবাদে আগামী দুই দিনের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বর্তমানে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আল-জাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার জানিয়েছেন, ১৮ এপ্রিলের আগে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। স্বাগতিক দেশের সরকারপ্রধানের অনুপস্থিতিতে এমন গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, পরবর্তী কোনো বৈঠকের বিষয়ে তাঁদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান হলেও নতুন কোনো বৈঠকের দিনক্ষণ বা আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত হয়নি।
যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরান চুক্তিতে আগ্রহী এবং যুদ্ধ ‘শেষের পথে’, ইরান বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। গত ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে। এই সময়সীমার মধ্যে কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয় পক্ষের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ।
আলোচনার গুঞ্জনের মাঝেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। বুধবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন:
“যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার কোনো চেষ্টা চালায়, তবে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য। ইরানি জাতি কখনোই নতি স্বীকার করবে না।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইরান যুদ্ধ চায় না এবং গঠনমূলক আলোচনায় বিশ্বাসী, তবে তা কোনো চাপের মুখে নয়।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘দুই দিনের মধ্যে কিছু ঘটার’ বার্তা দিলেও বাস্তব চিত্র বলছে—সংলাপ শুরু হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তবে ওয়াশিংটন এবং তেহরান উভয় পক্ষ থেকেই আলোচনা পুনরায় শুরু করার একটি প্রচ্ছন্ন সংকেত পাওয়া যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা নিরসনে একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে। এখন বিশ্ব রাজনীতির নজর ১৮ এপ্রিলের পর পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে।
মন্তব্য করুন