প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সুদৃঢ় করা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জাপান সফরে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সুদৃঢ় করা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাবেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এ সফরেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পারস্পরিক বিনিয়োগের অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।
জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তাঁর মতে, কয়েকটি বড় প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে তারেক রহমান গত এপ্রিলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি সংকট ও স্থিতিশীলতা মোকাবিলায় জাপানের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনলাইন সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ জাপান সরকারের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করেছে। আসন্ন সফরে খাতভিত্তিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের যুবরাজ তারেক রহমানকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। সুবিধাজনক সময়ে শিগগিরই এ সফর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে তাঁকে ঢাকায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হবে।
পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন। মুসলিম বিশ্বের পবিত্র স্থান ও মসজিদ রক্ষায় কোনো উদ্যোগে সহযোগিতা বা সহায়তা চাওয়া হলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে।
‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কবিষয়ক সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ। এ ছাড়া বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন