প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় জোটের প্রধান দুই শরিক জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করায় জোটের অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে এককাট্টা হয়ে লড়ার অঙ্গীকার থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে আপাতত পৃথকভাবে এগোচ্ছে এই দুই দল। ইতোমধ্যে উভয় পক্ষই পৃথক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু করলেও নেতাদের দাবি, এই ভিন্নমুখী অবস্থান জোটগত সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম শুক্রবার যুগান্তরকে স্পষ্ট করে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলগতভাবেই হবে। জোট আমরা করেছি জাতীয় নির্বাচনের জন্য, স্থানীয় নির্বাচনের জন্য নয়। তাছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকেও হবে না। জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন জোটে হবে না। এককভাবেই হবে। অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হতে পারে। সেটা হবে প্রার্থী বুঝে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো একক প্রার্থী দেওয়া হবে না।
এ প্রসঙ্গে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমাদের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ। এখন পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত হলো, এনসিপি এককভাবেই স্থানীয় নির্বাচন করবে। আমরা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়েই সামনের দিকে এগোচ্ছি। সেই লক্ষ্যেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা চূড়ান্ত করছি।’ তবে ভবিষ্যতে বোঝাপড়ার সম্ভাবনার পথ খোলা রেখে তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যদি কোনো বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি হয় এবং ১১ দলের মতো জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা আলোচনা উন্মুক্ত রেখেছি।’ দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন দাবি করেন, এনসিপি সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত দল হিসাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশে এনসিপির নব জোয়ার বইছে।
তবে জোটের অপর শরিকরা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক জোটগতভাবে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, যেহেতু আমরা জোটে আছি সেহেতু মনে করি স্থানীয় নির্বাচনও জোটগতভাবে হওয়া উচিত। যেভাবে জাতীয় নির্বাচনে আমরা জোটগতভাবে প্রার্থী দিয়েছি, একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ১১ দলের পক্ষে একক প্রার্থী হতে পারে। বিপরীতে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান মনে করেন, একক অংশগ্রহণই শ্রেয়। তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন যার যার অবস্থান থেকে এককভাবেই করা উচিত। এতে সব দল তাদের সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। কোন কাঠামোর নির্বাচন আগে হবে, তা এখনও চূড়ান্ত না হলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অগ্রাধিকার পেতে পারে। এই ঘোষণার পরপরই জোটের তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে। এনসিপি ইতোমধ্যে ১০ মে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে, যাদের মধ্যে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও মেয়র পদের প্রার্থীরাও রয়েছেন। আগামী ২৫ মের মধ্যে তারা আরও ১০০ প্রার্থীর নাম প্রকাশ করবে। অন্যদিকে জামায়াত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও তৃণমূলে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছেন। তবে ১১ দলের অন্য শরিক কোনো দল গতকাল পর্যন্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে দৃশ্যপট বলছে, স্থানীয় নির্বাচনের ময়দানে জোটের অন্দরেই চলছে নীরব কৌশলী লড়াই।
মন্তব্য করুন