নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৩:৩৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় সৌদি আরবের পাশে থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের কোনো দ্বিমত নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ দুই পবিত্র স্থান আক্রান্ত হলে সৌদি আরব যে ধরনের সহযোগিতা চাইবে, তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার। মক্কা চুক্তির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং এতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানানো হয়েছে।

চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আমন্ত্রণ বা জবাব এসেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পবিত্র মক্কা ও মদিনার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানে কোনো আপস নেই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত বিনিয়োগ। বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হলো শ্রমবাজার; সৌদি আরবে আরও দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, এত দিন দুই দেশের সম্পর্ক মূলত শ্রমিক পাঠানো ও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সেই গণ্ডি পেরিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।

হুমায়ুন কবির জানান, সৌদি আরব বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। স্টার রিফাইনারি-২ প্রকল্পে সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বিনিয়োগভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। প্রচলিত শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতির ভিত্তিতে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মক্কা ও মদিনা যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেখানে অসংখ্য মুসলমানের বসবাস। মুসলিম দেশগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরে বিনিয়োগ অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর জ্বালানি সংকট দেখা দিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানিবিষয়ক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

জাপান সরকারের আগ্রহ এবং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।

মন্তব্য করুন