নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:২৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নিষেধাজ্ঞা বহাল, তবু রুশ ডিজেল রপ্তানিতে সমঝোতা কেন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করেই তিনি এ বার্তা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

একই সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি নিয়েও ট্রাম্প-পুতিনের মধ্যে সমঝোতার কথা সামনে এসেছে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও আগামী কয়েক মাসে রাশিয়াকে ১০ লাখ টনের বেশি ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে।

শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানান, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে পুতিন সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন।

পেসকভ বলেন, “ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে পুতিন সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ইরানি পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন।”

তবে যুদ্ধ বন্ধে ইরান ঠিক কী কী শর্ত দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ক্রেমলিন। পুতিনের মাধ্যমে তেহরানের অবস্থান জানার পর ট্রাম্প কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তা-ও স্পষ্ট নয়।

যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি নিয়েও নতুন সমঝোতার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী কয়েক মাসে রাশিয়ার ১০ লাখ টনের বেশি ডিজেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।

ট্রাম্পের দাবি, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেই এ সমঝোতা করা হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি বাড়লে বাজারে সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে এ সমঝোতা জ্বালানির দাম কতটা কমাতে পারবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এর প্রভাব নির্ভর করবে রপ্তানির প্রকৃত পরিমাণ, সরবরাহের সময়সূচি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।

পুতিনের মাধ্যমে ইরানের অবস্থান ট্রাম্পের কাছে পৌঁছানোর ঘটনা চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি পদক্ষেপ। তবে এ যোগাযোগের ফলে যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী সমঝোতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

ইরানের শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং সম্ভাব্য আলোচনার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কেও মস্কো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে পুতিনের যোগাযোগের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার পথ কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

একদিকে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অবস্থান নিয়ে আলোচনা, অন্যদিকে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দাবি—দুটি বিষয়ই চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবকে সামনে এনেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

মন্তব্য করুন