প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে ইউজিসি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ইউজিসির জন্য ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে কমিশনের ১৭৮তম পূর্ণ কমিশন সভায় এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কার্যপত্র উপস্থাপন করেন ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম।
অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বরাদ্দের মধ্যে ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয় এবং ৪৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশোধিত বাজেট ছিল ১০ হাজার ৮০২ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা থেকে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজেট অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এককভাবে সর্বোচ্চ ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে মোট ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৯ কোটি টাকা বেশি।
ইউজিসি জানায়, গবেষণা খাতে অর্থ ব্যবহারে দ্বৈততা দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিশনের পৃথক গবেষণা বাজেট একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের ২০০ কোটি টাকা ইউজিসির বাজেটে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে ইউজিসির গবেষণা খাতে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা, এর সঙ্গে বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে ১২ কোটি টাকা যুক্ত হয়ে মোট বরাদ্দ ২৩৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে গবেষণা তহবিল আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ করা হলেও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হবে না, বরং মান ও প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ বণ্টনের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ এখনো কম হলেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে অর্থ ব্যয় করা গেলে উচ্চশিক্ষা খাত আরও উপকৃত হবে। টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে মানসম্মত গবেষণার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
সভায় ইউজিসির সদস্য, পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন