প্রকাশিত: ৯ অক্টোবার, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের চক মাকড়া (মধ্যপাড়া) গ্রামে মসজিদে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে অন্যের জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাঁধা দেওয়ায় মুয়াজ্জিন জহুরুল ইসলাম প্রধানের (৪৯) ওপর হামলা করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে নিহতের পাঁচ প্রতিবেশীকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ২ থেকে ৩ জনকে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬ইং তারিখে) গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬ইং তারিখে) রাতে নিহতের স্ত্রী মমিনা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে দুপুরেই জহুরুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন - সানোয়ার আকন্দ (৫৫), জিহাদ আকন্দ (৩২), এরশাদ আকন্দ (৩৪), জিল্লু আকন্দ (৪০) ও মাসুদ আকন্দ (৪৪)।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আগে থেকেই বিরোধপূর্ণ জমিটির সীমানা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শালিস করা হলেও তারা তা মানতে নারাজ। বুধবার সকাল ৯টার দিকে আসামিরা মসজিদের পাশে নিহতের জমিতে ইট প্রাচীর গাঁথার উদ্দেশ্যে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়তে থাকে। এ খবর শুনে জহুরুল বাড়ি থেকে ছুটে আসেন৷ তাঁর জমিতে ইটের প্রাচীর তুলে মসজিদে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ না করার অনুরোধ করেন। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মুয়াজ্জিন জহুরুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে সানোয়ারের নির্দেশে জিহাদ কোদালের আছাড়ি দিয়ে তাঁর বুকে স্বজোরে আঘাত করে। তখন জহুরুল চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জহুরুল ইসলাম প্রধানকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফরহাদ আলী বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা সবাই নিহতের প্রতিবেশী। তাদের মধ্যে আগে থেকেই জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। গতকাল রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন