অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫১ মিনিট আগে, ১১:২৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

শেষ মুহূর্তে কেন বারবার ভেস্তে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর

চলতি আগস্ট মাসের শেষার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত ভারত সফর অন্তত দু’দুবার একেবারে শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে গেছে। সফরের সব ধরণের প্রস্তুতি ও দিনক্ষণ প্রায় চূড়ান্ত হওয়া সত্ত্বেও নজিরবিহীনভাবে ভেস্তে যায় এই দিল্লি যাত্রা। এমনকি সফররত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের দেওয়া প্রথাগত অভ্যর্থনার মহড়া পর্যন্ত স্থগিত করতে হয়েছে দিল্লিকে। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের পর থেকে এই সফর নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা চললেও, দুদেশের অভ্যন্তরীণ ও কূটনৈতিক জটিলতায় সৃষ্টি হয়েছে এই অচলাবস্থা।

১. প্রত্যর্পণ বনাম রাজনৈতিক আশ্রয়
সফর স্থগিত হওয়ার মূল নেপথ্যে রয়েছে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার উপস্থিতি। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান পরিষ্কার—শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে না দেওয়া পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক সফরের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে ভারতের দাবি, প্রত্যর্পণের আবেদনটি তাদের আইনগত পর্যালোচনায় রয়েছে এবং দিল্লিতে বসে দেওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য তাঁর ‘ব্যক্তিগত বিষয়’। তবে ঢাকার ধারণা, ভারতের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছাড়া তাঁর এমন প্রকাশ্যে গণমাধ্যম ও সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়া অসম্ভব।

২. বিশ্বাসের ঘাটতি ও কৌশলী অবস্থান
দিল্লির একটি বড় অংশের ধারণা, প্রত্যর্পণের দাবি মূলত ঢাকার একটি রাজনৈতিক অজুহাত। ভারতীয় পক্ষ মনে করে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো হলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানো বিএনপির জন্য আরও কঠিন হতে পারে। ফলে মুখে প্রত্যর্পণের দাবি করা হলেও, দুই দেশের বক্তব্য ও প্রকৃত মনস্তত্ত্বের মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যবধান বিদ্যমান।

৩. সমঝোতার নতুন সূত্র ও ভারতের কৌশল
শেখ হাসিনাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে রেখে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারত চায়, শেখ হাসিনাকে জোর করে প্রত্যর্পণ না করে, তাঁর নিজের ইচ্ছেয় দেশে ফিরে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পথ সুগম করা হোক। এতে কূটনৈতিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সাউথ ব্লক।

৪. ভারতে স্থগিত প্রকল্প ও চীনের প্রভাব
বাংলাদেশে বিগত দুই বছর ধরে থমকে থাকা ভারতীয় প্রকল্পসমূহ, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন এবং বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা নিরসনে মোদী সরকার তারেক রহমানের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসতে মরিয়া। তদুপরি, সম্প্রতি তারেক রহমানের সফল চীন সফরকেও ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে নয়াদিল্লি।

এখন সবার নজর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন’-এর দিকে। বিমস্টেক জোটের চেয়ার হিসেবে সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইতোমধ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক স্বাধীন সফর সম্ভব না হলেও ব্রিকসের এই বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৃথক বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য করুন