প্রকাশিত: ৫৬ মিনিট আগে, ১১:২২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ভুটানের রাজার বিশেষ বিমানটি ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করলে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের রাজাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত প্রায় এক ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত অবস্থানকালে উভয় নেতা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান ভুটানের রাজা। জবাবে রাষ্ট্রপতিও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে রাজা ও ভুটানের রাজপরিবারের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
কথোপকথনে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার গভীর ঐতিহাসিক সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে ভুটান এক বিশেষ স্থানে রয়েছে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ ছিল ভুটান।” এ সময় তিনি ভুটানের সাবেক রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ অনুরাগের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
আলোচনাকালে ভুটানের রাজা শিক্ষা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি, তিনি তার অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (Gelephu Mindfulness City) সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দূরদর্শী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও রূপান্তরে ভুটানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ভুটানের রাজাও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি থিম্পুর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।
মন্তব্য করুন