তরুণ কণ্ঠ অনলাইন

প্রকাশিত: ৪৮ মিনিট আগে, ০৮:০১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী হত্যা

পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে ক্ষোভ ও সন্দেহ, ডিবিতে মামলা হস্তান্তর

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্য হত্যাকাণ্ডে পুলিশের দেওয়া ব্যাখ্যা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও গভীর সন্দেহ। 'ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় দুই যুবক একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করেছেন', পুলিশের এমন বক্তব্য পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রংপুরের বিশিষ্টজন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটিকে পুলিশের 'সাজানো নাটক' উল্লেখ করে গ্রেপ্তারকৃতদের আড়াল করে মূল আসামিদের বাঁচানোর চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার রাতে কামালকাছনা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১৩)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর প্রতিবেশী দুই যুবক সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাসকে (২৩) আটক করা হয়। পরবর্তীতে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ দাবি করেন, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় আসামিরা শ্বাসরোধে চারজনকে হত্যা করে। এমনকি হত্যাকাণ্ডের পর তারা সেখানে গোসল করে, ফ্রিজের খাবার খায় এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করে নিজেদের মোবাইল নষ্ট করে।

পুলিশের এই অস্বাভাবিক বিবরণ শুনেই ফুঁসে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ। রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক শফিয়ার রহমানসহ আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, চারজনকে হত্যার পর দুই তরুণ কেন বহাল তবিয়তে সেই বাড়িতে অবস্থান করবে কিংবা ফ্রিজ খুলে খাবার খাবে? পুলিশ যে রূপকথা সাজিয়েছে, তা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণার সঙ্গে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যেও বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। পুলিশ কমিশনার নিহতের চোখের কোটর ও চোয়াল ভাঙার কথা বললেও, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস নিশ্চিত করেছেন যে মরদেহগুলোতে কোনো রাসায়নিক, অ্যাসিড বা হাড় ভাঙার আলামত পাওয়া যায়নি; দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় স্বাভাবিক পচন প্রক্রিয়ায় চেহারার বিকৃতি ঘটেছিল।

পরিস্থিতি জটিল ও বিতর্কিত হয়ে উঠায় রংপুর কোতোয়ালি থানা থেকে মামলাটির তদন্তভার ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ)-তে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, স্বচ্ছতা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থেই তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

রংপুর জেলা মহিলা পরিষদ ও মহানগর নাগরিক কমিটিও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জোরালো দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এর মধ্যে আসল খুনি ও নেপথ্যের সঠিক রহস্য বের করা না হলে পুরো রংপুর শহর স্তব্ধ ও অচল করে দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন