প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:১৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছে সরকার। গত পাঁচ মাসে অভিযান চালিয়ে ২৫০টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে নিয়মিতভাবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি অভিযানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজেও উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে এবং প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠানকে সংশোধনের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সবিহীন অনেক প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বৈধতা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক লাইসেন্স নবায়ন করেছে এবং আরও ২ থেকে ৩ হাজার আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম ও নিম্নমানের সেবার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৪০, ময়মনসিংহে ২৫২, খুলনায় ১৫৬, রংপুরে ১১১, রাজশাহীতে ৫৫, বরিশালে ৪৮ এবং সিলেটে ৮টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযানে রাজধানীতে প্রায় ২৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় একাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ, জরিমানা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিককে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানী থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান ধাপে ধাপে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। লাইসেন্স যাচাই, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং চিকিৎসকদের সনদ যাচাই করা হচ্ছে। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে তাৎক্ষণিক জরিমানা, সিলগালা বা কার্যক্রম বন্ধের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভুয়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন