প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০২:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা, সাংবিধানিক অধিকার ও আইনি সহায়তা, সবকিছুই নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশ্বাস দেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, 'শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এলে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার যেসব অধিকার রয়েছে, সেগুলো তিনি ভোগ করবেন।' তিনি যোগ করেন, এরপর আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই সবাইকে মেনে নিতে হবে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবার সমান অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, 'এটা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে সবচেয়ে বড় অপরাধীরও নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তিনি শেখ হাসিনা হোন বা সাকিব আল হাসান-সবার ক্ষেত্রেই আইন ও সংবিধানের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।' পাশাপাশি তিনি জানান, সরকার কোনো ফ্যাসিস্ট বা মাফিয়া শাসনব্যবস্থা আর দেখতে চায় না এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে আরও বিস্তারিত বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'তিনি যদি আসেন, পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আসবেন। পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবেন এবং তার পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। যা যা করার দরকার, তা করা হবে।'
ব্রিফিংয়ে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গও উঠে আসে। নিরাপত্তা চেয়ে সাকিবের সরকারের কাছে আবেদন এবং মামলার মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা জানান, কেউ বাংলাদেশে ফিরে মামলা, আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চাইলে তার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও আইনগত বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হবে, তবে আইন মেনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে এখনো আগের সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হওয়ার কারণে কেউ সরকারি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বিবেচিত হন না, তবে অভিযোগ থাকলে তার ভিন্ন বিবেচনা হবে। যারা প্রকাশ্যে ও সক্রিয়ভাবে আগের সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের বিষয়ে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সরকার কোনো বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮০ দিনে কী কী কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তারও হিসাব রাখা হচ্ছে এবং এই সময়ের নিরিখেই সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
গণমাধ্যমে আগের সরকারের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে, সাংবাদিকদের এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারও লক্ষ্য করছে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সবশেষে গণতান্ত্রিক পরিসরে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার বিষয়টি স্বীকার করে উপদেষ্টা বলেন, তবে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা অবশ্যই আইনগতভাবে বিবেচনা করতে হবে— আইন ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য।
মন্তব্য করুন