প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৬:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জ্বালানি ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ, আর এই লক্ষ্যে সোমবার (১০ আগস্ট) একটি আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদের উপসচিব তানিয়া আফরোজের স্বাক্ষরে জারি হওয়া এই পরিপত্রে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের বেশিরভাগ অংশ যেন সৌরবিদ্যুৎ থেকে আসে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে। পাশাপাশি বাকি সরকারি দপ্তরগুলোকেও পর্যায়ক্রমে সর্বোচ্চ পরিমাণে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আওতায় আনার নির্দেশনা রয়েছে পরিপত্রে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে তাৎক্ষণিকভাবেই— বিলম্বের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
এই পরিপত্রের নেপথ্যে রয়েছে গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা, যেখানে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে ধাপে ধাপে সৌর প্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুধু সরকারি ভবনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি সেই সভার সিদ্ধান্ত। দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা প্রদানের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয় সেখানে। এছাড়া সাধারণ নাগরিকদের কাছে সৌরবিদ্যুৎকে আরও সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল তৈরির ওপরও জোর দেওয়া হয়।
সভায় গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌর প্যানেল স্থাপনের প্রথম পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা।
সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের মূল লক্ষ্য তিনটি— সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সৌরশক্তির অংশ বৃদ্ধি করা, সামগ্রিক জ্বালানি ব্যয় হ্রাস করা এবং দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা।
মন্তব্য করুন