প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও বোনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে নিজ বাসায় কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মেঝো বোন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার ইটের আঘাতে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তাঁর বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার, যিনি নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের বাসিন্দা কার্তিক মজুমদারের ছেলে। এই হামলায় আহত মেঝো মেয়ে এবং রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিবারটি মূলত কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা এবং ২০১৯ সালে গৃহকর্তা কামাল হোসেনের বিদ্যুৎস্পর্শে মৃত্যুর পর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর রায়পুরের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, সকালে ওই যুবক আচমকা বাসায় ঢুকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে মা ও তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই মা শাহিনুর ও ছোট মেয়ে শিফা মারা যান। স্থানীয়রা বাকিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বড় মেয়ে সায়মাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ঘাতককে ধরে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয় এবং জনতার ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
হত্যাকাণ্ডের তীব্রতা নিশ্চিত করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এছাড়া তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো উদঘাটিত না হলেও বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে তিনি পথে মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে ৭ জন সদস্য আহত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক। তিনি চারজন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিস্তারিত জানানো হবে।
মন্তব্য করুন