আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬, ০৯:৫৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন: ইরান চুক্তিতে চাপে নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি তাঁর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এবং নির্বাচনের আগে নতুন সংকট তৈরি করেছে।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে ইসরায়েলের প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের এই সমঝোতার ফলে সেই কৌশল কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে, ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ নেতানিয়াহুর ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর সামনে দুটি পথ খোলা—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ানো অথবা সমঝোতা মেনে নেওয়া। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও সংসদে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

চুক্তির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক সামরিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, যা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির ভেতরেও অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কট্টরপন্থী মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে চুক্তির বিরোধিতা করেছেন এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিশেষ করে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধের সম্ভাবনা ইসরায়েলের ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছে, এই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না।

এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইরান কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে। হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তার এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ইরানের অবস্থানকে আরও জোরালো করেছে।

গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় চলমান সামরিক কার্যক্রমও ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি এই সামরিক উপস্থিতি দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও রিজার্ভ বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা নেতানিয়াহুর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এই সংকট তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি শুধু আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যই পরিবর্তন করেনি, বরং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

মন্তব্য করুন