আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:২৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা বন্ধে ইরানকে ২২ দেশের তীব্র হুঁশিয়ারি

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের ২২টি রাষ্ট্র এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। বিবৃতিতে দেশগুলো তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইরানের যেকোনো ধরনের হামলা, উসকানি ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে এই যৌথ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে তাদের মাটিতে ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক এবং ইহুদি ও ইসরায়েলি সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ এনেছে। আজ বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, ‘আমাদের ভূখণ্ডে মানুষকে হত্যা, অপহরণ, হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো বা অন্য যেকোনো ধরনের আক্রমণের চেষ্টা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতিকে ক্ষুণ্ন করে। এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

এই বিবৃতিতে বিশেষভাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের বিদেশে অভিযান পরিচালনাকারী শাখা কুদস ফোর্সের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। এই বিশেষ বাহিনীগুলো বিভিন্ন দেশে প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র ও ক্ষতিকর কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দেশগুলো জানায়, ‘এসব হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের দেশ ও জনগণকে রক্ষা করার সংকল্পে আমরা ঐক্যবদ্ধ। ইরানকে অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।’

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপজুড়ে ইহুদি সম্প্রদায় এবং ইরানি ও মার্কিন সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে যে সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে, তার পেছনে প্রত্যক্ষভাবে ইরানের হাত রয়েছে। ইতিমধ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ ইউরোপের মাটিতে সংঘটিত এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইরানের এই বৈরী আচরণের বিরুদ্ধে গত বছর থেকেই কিছু দেশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে গত বছরের আগস্টে অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে। ক্যানবেরার অভিযোগ ছিল, তেহরান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অন্তত দুটি ইহুদিবিদ্বেষী হামলার নির্দেশ দিয়েছিল। এই ঘটনার জের ধরে অস্ট্রেলিয়া ইরান থেকে তাদের নিজস্ব রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং তেহরানে অবস্থিত অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। পরবর্তীতে গত নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে ঘোষণা করে।

নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে একজোটে এই হুঁশিয়ারি বার্তায় স্বাক্ষর করেছে বিশ্বের ২২টি প্রভাবশালী রাষ্ট্র। যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো—আলবেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য,试 (বুলগেরিয়া), কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পর্তুগাল, সুইডেন ও যুক্তরাষ্ট্র।

মন্তব্য করুন