তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:০৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট উপস্থাপন, যোগাযোগ অবকাঠামোয় বড় পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাজেট। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুর প্রথম বাজেট।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে। ঢাকার যানজট নিরসনে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়া ছয়টি মেট্রোরেল লাইনের সমন্বয়ে আধুনিক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত মনোরেলভিত্তিক ফিডার নেটওয়ার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুরোনো বাস পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক বাস দিয়ে প্রতিস্থাপনের উদ্যোগও রয়েছে।

বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক টোল ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রেল যোগাযোগে উন্নয়নের অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মাণের মাধ্যমে দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রামকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিমান যোগাযোগ খাতেও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ কেনার লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের কথাও জানানো হয়েছে।

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি চলছে এবং প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র পথে এগিয়ে নেওয়া।

মন্তব্য করুন