প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৫:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা এবং কৃষি খাতে বড় ধরনের শুল্ক ও কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত এই বাজেটে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব বাড়াতে এবং ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার কমাতে বিলাসী পণ্য ও তামাকজাত পণ্যের ওপর বাড়তি কর আরোপ করা হয়েছে।
শুল্ক-করের এই ওঠানামার কারণে নতুন অর্থবছরে কোন কোন পণ্যের দাম কমছে আর কোনগুলোর বাড়ছে, তার একটি বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কৃষি খাতকে চাঙ্গা করতে বাজেটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার বা হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে:
তথ্যপ্রযুক্তি ও শিক্ষা: আইটি খাতে তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির প্রসারে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে প্রযুক্তি পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এছাড়া কম্পিউটারের এসএসডি (SSD) ও পস (POS) মেশিনের দামও কমতে পারে।
চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ: সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর ভ্যাট ও অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিবার ডায়ালাইসিসে প্রায় ৮০০ টাকা খরচ কমবে। হার্টের রিংয়ের দাম কমতে পারে প্রায় ২০ হাজার টাকা। এছাড়া চোখের লেন্স, ক্যান্সারের ওষুধ এবং মৃতদেহ সংরক্ষণের সরঞ্জামের (মর্চুয়ারি) দাম কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়ায় সাধারণ ওষুধের দামও কমবে।
খাদ্য ও নিত্যপণ্য: রোজাদার ও সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে খেজুর আমদানির ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক এবং দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলার শুল্ক তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া শিশুখাদ্য তৈরির কাঁচামালে শুল্ক কমানোর ফলে বাজারে গুঁড়ো দুধসহ বিভিন্ন শিশুখাদ্যের দাম কমতে পারে।
পরিবেশবান্ধব পরিবহন: পরিবেশবান্ধব যাতায়াত উৎসাহিত করতে ইলেকট্রিক গাড়ি (EV) ও হাইব্রিড গাড়ির ওপর সামগ্রিক করভার ব্যাপকভাবে কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের ওপর থাকা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
कृषि ও মৎস্য খাত: সার, কীটনাশক এবং পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও খামারিদের ব্যয় অনেকাংশে কমবে।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং বিলাসী ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে বেশ কিছু পণ্যের ওপর করের হার বাড়ানো হয়েছে:
নির্মাণ সামগ্রী: নতুন অর্থবছরে বাড়ি তৈরির খরচ সাধারণ মানুষের জন্য আরও বাড়বে। এমএস (MS) রড ও সমজাতীয় ইস্পাত পণ্যের ওপর ভ্যাট ও কর প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
তামাক ও অ্যালকোহল: ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের ফিল্টার ও নিকোটিনের ওপর উচ্চহারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে উচ্চস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ২১০ টাকা হতে পারে। এছাড়া দেশে উৎপাদিত মদের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা নতুন ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলাসী ও আমদানিকৃত খাদ্য: আমদানিকৃত উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ ও বিলাসী খাবারের ওপর বাড়তি ভ্যাট বসতে পারে। পাশাপাশি দেশীয় চাষীদের সুরক্ষা দিতে আমদানিকৃত কাজুবাদামের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক ছাড়ের এই প্রস্তাবগুলো সরাসরি ও দ্রুত কার্যকর হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এর সুফল পাবেন। তবে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনায় যদি সরকারের কঠোর ও নিয়মিত তদারকি না থাকে, তবে এই ছাড়ের প্রকৃত সুবিধা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা থেকে যায়। তাই শুল্ক হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে যেন পণ্যের দাম সঠিকভাবে কমে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
মন্তব্য করুন