তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:২৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ ওসমান হাদির বীরত্বগাথা, ২০২৮ থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্তি

ছবি: তরুণ কণ্ঠ গ্রাফিক্স

২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন শিক্ষাক্রমের আওতায় পাঠ্যবইয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জীবন, কর্ম ও বীরত্বগাথা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বুধবার (১০ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্র জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক প্রবন্ধের আলোকে নতুন পাঠ সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির বীরত্বগাথা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে ২০২৮ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ অধ্যায়ে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেনসহ অন্যান্য শহীদদের মতো একই বিন্যাসে ওসমান হাদিকেও উপস্থাপন করা হতে পারে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় শিক্ষাক্রম পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে পাঠ্যবইয়ে কিছু পরিমার্জন আনা হয়। পরে বিএনপি সরকার ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

ঝালকাঠির নলছিটির বাসিন্দা ওসমান হাদি মাদ্রাসা শিক্ষকের সন্তান ছিলেন। নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে আলোচনায় আসা এই তরুণ নেতা ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেছিলেন এবং সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তার।

মন্তব্য করুন