প্রকাশিত: ১৮ আগষ্ট, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা বাড়াতে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্যকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আয়তন ও অর্থনীতির পার্থক্য থাকলেও ভৌগোলিক বাস্তবতা দুই দেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সম্মিলিত অর্থনীতি বড় হলেও আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য তুলনামূলক কম—এই বাস্তবতায় অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আলোচনা প্রয়োজন এবং আগামী কয়েক মাসে এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ভিসা জটিলতার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে তিনি দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদল অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেয়। এর একটি বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব উন্নয়নে, অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্যাটারি সংরক্ষণ ও ডাটা সেন্টারসহ ভবিষ্যৎমুখী শিল্পে কাজ করবে।
তারা জানায়, ভারতে অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনশীল শিল্পকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে আমদানিনির্ভরতা কমে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হয়।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আনতে দীর্ঘ সময় লাগায় ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়ছে। স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমবে। দ্রুত বর্ধনশীল ভোগ্যপণ্য খাতেও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে ভারতীয় প্রতিনিধিদল।
শিল্পে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারে শুল্ক কাঠামো সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে বিভিন্ন শিল্পে উল্লেখযোগ্য গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব। তবে শুল্ক বৈষম্য এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশি তরুণদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং তৃতীয় দেশে কর্মসংস্থানে ভিসা জটিলতা নিরসনে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষই সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ, ব্যবসায়ী পর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
মন্তব্য করুন