প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা থাকলেও মূল বেতন, বিভিন্ন ভাতা, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে জটিলতা কাটেনি। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি এবং আগস্টে গেজেট প্রকাশ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেতন কমিশনের সুপারিশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত সচিব কমিটি আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠক করতে পারে। এসব বৈঠকের পর সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে। পরে মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে গেজেট জারি করা হতে পারে।
গত ১৫ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সচিবালয়ে পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, অষ্টম পে স্কেলের সীমাবদ্ধতা এবং নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন বৈষম্যের শিকার না হন বা অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল বাস্তবায়নের পর বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, এবার সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রগুলোর মতে, শুরুতে দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে তিন ধাপে পে স্কেল কার্যকরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন চালু করা হবে এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করা হতে পারে।
আলোচনায় ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকরের একটি নীতিগত প্রস্তাব এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রযুক্তিগত বিষয়ও বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ইএফটি ও আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হয়। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে এসব সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ এবং জটিল।
চলতি বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
একটি সূত্র বলছে, আগস্টেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্রের মতে, সব প্রক্রিয়া শেষ করে অক্টোবরের আগে গেজেট জারি করা কঠিন হতে পারে।
বৈঠকে নবম পে স্কেলে কমিশনের প্রস্তাব করা ২০টি গ্রেড রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা থাকলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এ অঙ্ক পরিবর্তিত হতে পারে।
এখন সচিব কমিটির পরবর্তী বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত পর্যালোচনা শেষ করে সরকার নবম জাতীয় পে স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশ করবে।
মন্তব্য করুন