তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৪৫ মিনিট আগে, ০৩:২১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, তদন্তে যা মিলল

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ লাল টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় প্রায় তিন মাস তদন্তের পর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্তে ওই টেলিফোনের তার কাটার ঘটনায় কোনো ভিন্ন বা সন্দেহজনক উদ্দেশ্যের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা।

তদন্ত শেষে এ ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। অভিযুক্তরা হলেন—সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র, ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলাম ও মো. মাহাবুব হাসান। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মোর্শেদুল হাসান জানান, যাবতীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটি শুধু চুরি হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে। তিনজনকে চুরির মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

ঈদের ছুটির পর সংযোগ বিচ্ছিন্নের বিষয়টি ধরা পড়ে

গত কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে ১ জুন সচিবালয় খোলার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখতে পান। পরে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার ১ জুন শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সচিবালয়ের পুরোনো এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল ছিল। এই কেবলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল।

পরে শাহবাগ থানায় মামলা হলে রঞ্জন চন্দ্র ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মাল কেনার অভিযোগে মাহাবুব হাসানকেও গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তে যেভাবে চুরির তথ্য উঠে আসে

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা যায়, ধলেশ্বরী কোম্পানির অধীনে আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে সচিবালয়ে পরিষ্কারকর্মীর দায়িত্বে ছিলেন রঞ্জন চন্দ্র। গত ২২ মে সকালে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ছাদে ময়লা পরিষ্কার করার সময় তিনি টেলিফোনের তামার তার এন্ট্রি কাটার ব্লেড দিয়ে কেটে নেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পরে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স নামের ভাঙারির দোকানে ওই তার কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয় বলে তদন্তে জানা যায়।

সেখান থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামা উদ্ধার করা হয়। পরে মাহাবুব হাসানের কাছ থেকেও ৪ কেজি ২০০ গ্রাম চোরাই তার জব্দ করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ছাদে প্যাঁচানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ তার দেখে রঞ্জন চন্দ্র তা চুরি করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এর আগে ছোটখাটো মালামাল চুরির কথাও স্বীকার করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানান।

তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ওই টেলিফোন সংযোগের তার চুরির পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদ, তথ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করেই ঘটনাটিকে চুরির ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন