বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫১ মিনিট আগে, ০৩:১৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নারীর যৌনতা নিয়ে কাজ করতে এখনো সতর্ক থাকতে হয়: রাধিকা আপ্তে

প্রেম, সম্পর্ক, যৌনতা ও নারীর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভারতীয় সিনেমায় আগের তুলনায় বেশি গল্প তৈরি হলেও এসব বিষয় নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এখনো নির্মাতাদের সতর্ক থাকতে হয় বলে মনে করেন অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। তাঁর মতে, মানুষ খুব দ্রুত কোনো বিষয়ে আপত্তি জানায়, যা শিল্পীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ মুক্তির আগে ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় সিনেমায় নারীর যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা ও সম্পর্কের গল্প বলার সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন রাধিকা। একই সঙ্গে নতুন অ্যান্থলজিতে তাঁর চরিত্র, সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং স্বামী ডেরেকের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

‘মানুষ খুব দ্রুত ক্ষুব্ধ হয়ে যায়’

ভারতীয় সিনেমায় নারীর যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আগের তুলনায় অনেক বেশি খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে বলে মনে করেন রাধিকা। তবে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের এখনো অনেক সতর্ক থাকতে হয়।

রাধিকার ভাষায়, মানুষ খুব দ্রুত ক্ষুব্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে শিল্প তৈরির ক্ষেত্রে এটিকে তিনি বড় সমস্যা হিসেবে দেখেন।

তাঁর মতে, একজন শিল্পী এমন কিছু তৈরি করতে পারেন, যা কারও কাছে আপত্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু কাজটি করার সময় শিল্পী নিজেও হয়তো বুঝতে পারেন না, সেটি ঠিক কোন জায়গায় গিয়ে কারও মনে আঘাত করতে পারে।

রাধিকার মতে, বিষয়টি শুধু যৌনতা বা যৌন আকাঙ্ক্ষার গল্পের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। শিল্পী ও তাঁদের কাজকে ঘিরে সমাজে তৈরি হওয়া নৈতিকতার ধারণাও এতে ভূমিকা রাখে। কারও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার ধারণার সঙ্গে কোনো কিছু না মিললেই সেটিকে সমস্যা হিসেবে দেখা হতে পারে।

দর্শক প্রস্তুত, বাধা অন্য জায়গায়

নারীর ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা কিংবা যৌনতার মতো বিষয় নিয়ে গল্প দেখতে দর্শক প্রস্তুত নন—এমনটা মনে করেন না রাধিকা। তাঁর মতে, দর্শক, অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতারা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকলেও সামাজিক ও নৈতিক চাপের কারণে সেই পরিবর্তন সব সময় সহজে আসে না।

রাধিকার মতে, এসব গল্প বলতে গিয়ে ‘মোরাল পুলিশিং’ এখনো বড় বাধা। অর্থাৎ গল্পটি দর্শক গ্রহণ করবেন কি না, তার পাশাপাশি সেটি সমাজের প্রচলিত নৈতিকতার ধারণার সঙ্গে সংঘাতে যাচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হয়।

‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এ রাধিকার গল্পে বিষাদ

নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এ প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও জটিল সম্পর্কের চারটি গল্প রয়েছে। অ্যান্থলজিটির চারটি গল্প পরিচালনা করেছেন বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে, কিরণ রাও, শকুন বাত্রা ও বিশাল ভরদ্বাজ।

অ্যান্থলজিতে রাধিকার গল্পেও রয়েছে সম্পর্কের জটিলতা ও আবেগের টানাপোড়েন। নিজের গল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, গল্পটির মধ্যে বিষাদও রয়েছে। চরিত্রগুলো নিজেদের অনুভূতিই ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারে না। কারণ, তাদের সামনে অনেক কিছু হারানোর বা বদলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজের গল্প সম্পর্কে রাধিকা বলেন, এতে একটি ট্র্যাজেডিও রয়েছে। তবে গল্পটির কেন্দ্রীয় জায়গায় রয়েছে চরিত্রগুলোর বন্ধুত্ব। সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও বন্ধুত্বই শেষ পর্যন্ত গল্পটিকে ধরে রাখে।

এই কাজের মাধ্যমে আবারও বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানের সঙ্গে কাজ করেছেন রাধিকা। পাশাপাশি অভিনয় করেছেন কঙ্কনা সেন শর্মা ও বিজয় ভার্মা। তাঁদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে তিনি উপভোগ করেছেন বলেও জানান অভিনেত্রী।

সম্পর্কে নিরাপত্তা থাকলে ব্যক্তিগত পরিসরও তৈরি হয়

সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন রাধিকা। স্বামী ডেরেকের সঙ্গে সম্পর্কে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও একে অপরকে জায়গা দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে কাজ করে, সেটিও জানিয়েছেন তিনি।

রাধিকার মতে, তাঁদের সম্পর্কে একে অপরকে নিরাপত্তার অনুভূতি দেওয়াটাই স্বাভাবিকভাবে আরও বেশি স্বাধীনতার জায়গা তৈরি করেছে। সম্পর্কের মধ্যে ব্যক্তিগত পরিসর পাওয়ার জন্য আলাদা করে দাবি করার প্রয়োজন হয়নি বলেও তাঁর বক্তব্য।

তাঁদের সম্পর্কে ঈর্ষার জায়গা নেই বলেও জানান রাধিকা। কারণ, দুজনই জানেন যে প্রয়োজন হলে নিজেদের চাহিদার কথা একে অপরকে বলতে পারবেন। তাঁর কাছে মানসিক নিরাপত্তাই সঙ্গী হিসেবে পথচলা এবং ব্যক্তিগত পরিসর—দুটোর ভিত্তি।

মন্তব্য করুন